রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। ড্রোন আঘাত  হানা কুরচাতভ শহরটিতে দেশটির অন্যতম বড় একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত। তবে এ হামলার ঘটনায় ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রয়টার্স জানায়, কুরচাটভ শহরে ড্রোন হামলায় একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে গভর্নর রোমান স্টারোভয়েট নিশ্চিত করেছেন। ওই ভবনটি কুরস্ক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্টারোভয়েট জানান, হামলায় কেউ হতাহত হননি। তবে তিনি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির কোনো কথা জানাননি।

রয়টার্স জানায়, সোভিয়েত আমলে নির্মিত কুরস্ক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে চেরনোবিল পারমাণবিক কেন্দ্রের মতো একই ধরনের গ্রাফাইট-মডারেটেড চুল্লি রয়েছে। ১৯৮৬ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউক্রেনে অবস্থিত চেরনোবিল পারমাণবিক কেন্দ্রে বিস্ফোরণ ও আগুনকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনা হিসেবে ধরা হয়। ওই বিস্ফোরণে ইউরোপজুড়ে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। রাশিয়ার পারমাণবিক করপোরেশন জানায়, বর্তমানে কুরস্ক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তিনটি আরবিএম-১০০০ চুল্লি সচল রয়েছে। একটি চুল্লি বন্ধ রয়েছে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ঝাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে দুই পক্ষের লড়াইয়ে ইউরোপে পারমাণবিক বির্পযয়ের আশঙ্কা ছড়িয়েছিল। ইউক্রেনে অবস্থিত ঝাপোরিঝিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশই বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে হামলার পরিকল্পনার জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করে।

এদিকে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর দিকে ধেয়ে আসা একটি ড্রোন গতকাল গুলি করে ভূপাতিত করেছে রুশ বাহিনী। এ ঘটনায় মস্কোর বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।